কিভাবে মানুষের ভালোবাসা আপনি পাবেন? জানুন রহস্য

কিভাবে মানুষের ভালোবাসা । আমরা স্বীকার করি যে, আমরা চাই মানুষ আমাদের ভালোবাসুক। আপনি হয়তো অনেককে এটা বলতে শুনেছেন যে, মানুষ আমাদের ভালোবাসুক বা নাই বাসুক আমাদের কিছু যায় আসে না। আবার এটাও বলতে শুনেছেন যে, কেউ আমাদেরকে পছন্দ না করলেও কিছু যায় আসে না আমাদের। কিন্তু যখন আপনি শুনেন যে কেউ বলছে আপনাকে, আরে বাদ দাও বাদ দাও কথাটি সে সত্যি সত্যি বলে নি। এক মনোবিজ্ঞানী বলেন যে, “মানুষের মনের গভীর একটা ইচ্ছা হচ্ছে সে অপরের কাছে প্রশংসিত হতে চায়।” সে চায় কেউ একজন তার প্রশংসা করুক, তাকে পছন্দ করুক, তাকে ভালোবাসুক।

মানুষের ভালোবাসা পেতে চায় আমাদের অবচেতন মন। আপনি যদি আয়েশি ধরনের কোন ব্যক্তি না হোন তাহলে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব নিয়ে একবার ভাবুন। এটা মনে করা ঠিক হবে না যে, মানুষ আপনাকে ভালোবাসে না কারণ আপনি তাদের সাথে ভুল কিছু করেছেন। আপনি তাদের সাথে ভুল কিছু করেন নাই। তার বদলে আপনি মনে করুন যে সমস্যাটি আপনার মধ্যেই নিহিত। আপনিই মূল সমস্যা গুলো তৈরি করছেন। আপনার মধ্যে যে উৎকৃষ্ট জ্ঞান রয়েছে তা অন্যদের জানাতে হবে। এ বিষয়টি যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তা আপনি অনুভব করতে পারবেন কিছু সময় পরে।

 

কিভাবে মানুষের ভালোবাসা যা করবেন

ভালো হবার জন্য, শক্তিশালী হওয়ার জন্য, সুন্দর মানুষে পরিণত হওয়ার জন্য যাদেরকেই আপনি সাহায্য করুন না কেন তারা শেষ পর্যন্ত আপনার অনুরুক্ত ভক্তে পরিণত হবে। কাজেই যত বেশি সংখ্যক পারেন মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলুন। কাজটি করবেন সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে। কাজটি করুন, কারন আপনি তাদেরকে ভালোবাসেন এবং তাদের মধ্যে আপনি সম্ভানাকে দেখতে পান। এই একটি কাজ করুন দেখবেন আপনার কোন বন্ধুর অভাব হবে না। আপনি হবেন চিরস্থায়ী সুখী মানুষ। আপনার জীবনটা হয়ে যাবে অনেক আনন্দময়।

যাহোক নিচে অন্যদের কাছ থেকে বাস্তবে শ্রদ্ধা পাওয়ার দশটি উপায় তুলে ধরছি। যে দশটি উপায় প্রয়োগ করে আপনি জীবনে অন্য মানুষদের নিকট থেকে শ্রদ্ধা এবং সম্মান পাবেন। আপনি এই দশটি নিয়ম চর্চা করতে থাকুন। দেখবেন আপনি কেমন ফলাফল লাভ করেন।

১) মানুষের নামগুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন। একজন মানুষের কাছে তার নাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ তার নামটি অন্য মানুষের কাছে শুনতে অনেক ভালোবাসে।

২) এখন নিজেকে একজন স্বচ্ছন্দবোধের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। যাতে আপনার মধ্যে বিরক্তিকর কোন কিছু স্থান না পায়। যাতে করে আপনি হয়ে উঠেন একটি পুরনো জুতো বা পুরনো টুপির মতো যা মানুষ পড়তে স্বাচ্ছন্দবোধ করে।

৩) সতেজ গতিতে চলতে পারেন এমন গুণাবলি অর্জন করুন যাতে কোন কিছু আপনাকে বিরক্ত করতে না পারে।

৪) অহমবোধে আক্রান্ত হবেন না। কোন কিছু জানেন সে বিষয়ে আপনার অনুভূতি প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুন।

৫) অপরের কাছে নিজেকে আগ্রহজনক করে তুলুন যাতে মানুষ আপনার সঙ্গ চায়, আপনার সঙ্গ পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

৬) আপনার ব্যক্তিত্ব থেকে আঁচড় কাটা অংশটুকু বের করে দিতে শিখুন, এমনকি ওসব ও যেসব অবচেতন মনে আপনি করে ফেলতে পারেন।

৭) আন্তরিকভাবে কাউকে আরোগ্য করার চেষ্টা করুন, একজন ধর্মপ্রাণ সৎ মানুষ হিসেবে তা করুন, সব ভুল বুঝাবুঝি যা আগে ছিল এবং এখনও আছে তা মন থেকে ঝেরে ফেলুন। আপনার অযথা অভিযোগ গুলো মন থেকে বের করে দিন।

৮) আন্তরিকভাবে মানুষকে ভালোবাসতে না শেখা পর্যন্ত তা অনুশীলন চালিয়ে যান। মনে রাখবেন উইল রজার্স কি বলেছেন, “এমন কোন মানুষের সাথে আমার দেখা হয় নি, যাকে আমি ভালোবাসি নি। এমন হবার চেষ্টা করুন।

৯) কেউ সাফল্যজনক কিছু করলে তাকে স্বাগত জানাবার সুযোগ কখনোই হাতছাড়া করবেন না। অথবা কেউ দুঃখ পেলে তাকে সহানুভূতি অথবা নৈরাশ্য প্রকাশ করুন।

১০) গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করুন, যাতে করে মানুষকে আপনি কিছু দিতে পারেন। অর্থাৎ মানুষকে যাতে আপনি সাহায্য করতে পারেন। যার মাধ্যমে মানুষ শক্তিশালী হতে পারে এবং কার্যকরভাবে মানুষ তার জীবনকে মোকাবেলা করতে পারে। মানুষকে আপনি শক্তি দিন, তার বিনিময়ে তারা আপনাকে স্নেহ ভালোবাসা দিবে।

 

জীবনকে উন্নত করার জন্য আরো কিছু পরামর্শ

কোনদিন এমন ধারনা করবেন না যে, আপনি দানবের মতো প্রকান্ড এই পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন বা আপনার কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন। কখনো অত্যধিক চাপের মধ্যে থাকবেন না বা নিজেকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে রাখবেন না।

নিশ্চিত হোন যে আপনি যে কাজ করছেন তা আপনার মনের মতো। তাতে কাজটি আপনার জন্য আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে। একগুয়ে অনুভূতি নয়। সম্ভবত আপনার কাজটি পরিবর্তন করার কোন প্রয়োজন নেই। যদি করতেই হয় তাহলে আপনার নিজেকে পরিবর্তন করুন, দেখবেন আপনার কাজটি অন্যরকম লাগবে।

প্রথমে কাজের পরিকল্পনা করুন, তারপর পরিকল্পনাকে কাজে লাগান। পদ্ধতির অভাববোধ থেকেই “আমি বিপদাপন্ন” এমন অনুভূতি মনে আসে। তাড়াহুড়া করে কোন কিছু করার চেষ্টা করবেন না। এটার কারণ হলো, সময় অনেক বিস্তৃত। বাইবেলের সেই জ্ঞানগর্ব উক্তিটির দিকে মনযোগ দিন- “এই একটি কাজই আমি করি।”

সঠিক মানসিক অবস্থায় আসুন, মনে রাখবেন যে আপনার কাজে স্বাচ্ছন্দ্য অথবা কাঠিন্য নির্ভর করে যে আপনি কিভাবে তা ভাবছেন। যদি ভাবেন কাজটি কঠিন, তবে আপনি তা কঠিনই করে ফেলছেন এটা মনে রাখবেন। আর যদি ভাবেন কাজটি সহজ তাহলে কাজটি সহজই হবে। আর এটি সহজ সমাধানের দিকেই যাবে বা অগ্রসর হবে।

আপনার কাজে দক্ষ হয়ে উঠুন আপনি। জ্ঞানই শক্তি এই কথাটি মনে রাখুন সব সময়। যদি কোন কাজ সঠিকভাবে করেন তাহলে সেটা করতে আপনার কাছে সহজই মনে হবে। সহজ এবং শিথিল থাকতে অনুশীলন করুন। সব সময় সহজেই সব কিছু করুন। চাপ প্রয়োগ কিংবা জোর খাটাবেন না। চাপ প্রয়োগ করে কিংবা জোর খাটিয়ে কোন কিছু করা যায় না এই কথাটি মনে রাখবেন।

 

জীবনকে সহজ করা নিয়ে আরো জানুন

একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা সব সময় মনে রাখবেন, তা হচ্ছে আজকে যে কাজটি করতে পারবেন তা কালকের জন্য ফেলে রাখবেন না। আর এই জন্য নিজেকে সুশৃঙ্খল ভাবে গড়ে তুলুন। আপনার অসমাপ্ত কাজ জড়ো হতে হতে দেখবেন আপনার কাজকে অনেক কঠিন করে ফেলছে। সময় মতো সব কাজ সম্পন্ন করুন। আপনার কাজের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করুন। কারণ এর মধ্য দিয়ে কাজটি করার জন্য আপনি দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

সেই মহান অদৃশ্য অংশীদারকে (আপনার ঈশ্বরকে) আপনার সাথে আছে বলে আপনি অনুভব করুন। এটা ভাবতে বিষ্ময়কর মনে হয় যে, তিনি আপনার ভার নিজের হাতে তুলে দেবেন। বিধাতা যেমন উপসানলয়ে থাকেন কিন্তু একইভাবে তিনি আপনার বাড়িতে, আপনার অফিসে, কলকারখানায় স্টোরে এবং রান্নাঘরেও থাকেন। আপনার কাজ সম্পর্কে আপনি যতো বেশি জানেন তার চেয়েও বেশি জানে আপনার বিধাতা। তিনি আপনার সকল খোঁজ খবর রাখেন। তিনি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু। তিনি তার সৃষ্টির সাথেই রয়েছেন।

 

কিভাবে মানুষের ভালোবাসা । পরিশেষে বলা যায় যে, আপনি জীবনে উন্নতি করার জন্য সব সময় আপনার স্রষ্টার উপর ভরসা রাখুন। স্রষ্টাই পারে আপনাকে সবসময় সাহায্য করতে আপনার পাশে থাকতে। আপনি যতই কিছু করুন না কেন স্রষ্টার সাহায্য ব্যতিত আপনি জীবনে তেমন উন্নতি করতে পারবেন না। তাই নিজের মনে সব সময় স্রষ্টার কথা স্মরণ করুন। স্রষ্টাকে ভালোবাসুন। স্রষ্টার দেখানো পথে নিজের জীবনকে অতিবাহিত করুন।