প্রার্থনার শক্তিকে একটু পরীক্ষা করে দেখুন

প্রার্থনা শক্তি হলো মানসিক শক্তির প্রকাশ স্বরুপ। ঠিক যেমন বৈজ্ঞানিক কলাকুশল আণবিক শক্তির বিকাশ ঘটায়। প্রার্থনার বিষয়টি বুড়ো হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেও স্বাভাবিকভাবে নিয়ে নেয়। কিংবা নিবারণ করতে পারে অথবা শরীরকে আরো একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় ধরে রাখতে সহায়তা করে থাকে। আপনার জীবনী শক্তিকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাওয়া বা অবসাদ গ্রস্থ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে আপনার প্রার্থণা শক্তি। আপনার যেকোন সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন যদি প্রার্থণা শক্তিকে আপনার মনে প্রবেশ করাতে পারেন। প্রার্থনা শক্তি আপনার সমস্যা সমাধানে সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে। এটি আপনাকে প্রকৃতির মহান শক্তির সাথে একাত্ব থেকে জীবনে উন্নতি সাধন করতে সহায়তা করবে। আপনাকে শুধু এই শক্তিটাকে বুঝতে হবে। আপনাকে শুধু সঠিক ভাবে আপনার প্রভূর কাছে প্রার্থণা করে যেতে হবে।

 

প্রতিদিন সন্ধ্যা প্রার্থনা আপনাকে সতেজ করে তুলতে পারে এবং সকাল বেলার প্রার্থণাও আপনার নতুন দিনটিকে সজিব করে তুলতে পারে। আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে শুধু সঠিকভাবে মনযোগ দিয়ে প্রার্থণা করুন। দেখবেন আপনার সময়গুলো অনেক ভালো কাটবে। আপনার জীবনে বয়ে আসবে চির শান্তি। আপনার সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনি পাবেন বেঁচে থাকার সঠিক দিক নির্দেশনা। আপনার অবচেতন মনের গভীরে চলতে থাকা আপনার প্রার্থনা শক্তি আপনাকে দৃড়ভাবে বাঁচতে সহায়তা করবে। আপনাকে আপনার জীবনে পরম শান্তিতে থাকতে সহযোগীতা করবে। একমাত্র প্রার্থণা শক্তিই পারে আপনার জীবনকে অনেক সুখী ও ভালো করে তুলতে।

 

প্রার্থনা নিয়ে আরো কিছু পরামর্শ

যদি আপনি প্রার্থণার এই কৌশল সম্পর্কে জেনে না থাকেন তবে আপনাকে প্রার্থণা করার নতুন কৌশল রপ্ত করে নিতে হবে। প্রার্থনা করার নতুন কৌশল রপ্ত করার মাধ্যমে আপনার জীবনে প্রভুর শান্তির বারি ধারা বইতে শুরু করবে। একটি দক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রার্থণা করার কৌশল রপ্ত করা ভালো। সাধারণত প্রার্থণার দিকে ঝোঁক সম্পূর্ণ ধর্মীয় একটি ব্যাপার। তবে এটি বিজ্ঞানের চেয়ে আলাদা কোন বিষয় নয়। এখন বিজ্ঞানও প্রার্থণা শক্তিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

এ বিষয়টি আপনাকে সম্পূর্ণরুপে অনুধাবণ করা জরুরী যে যখন আপনি প্রার্থণা করেন তখন আপনি জগতের সবচেয়ে বড় শক্তিকে কাজে লাগান। এমন একটি বিষয়কে আলোকিত করার জন্য আপনি নিশ্চয়ই পুরনো ধাচের কোন কেরোসিনের বাতি জ্বালাবেন না। আপনি চাইবেন আধুনিক ধাচের একটি বাতি ব্যবহার করতে। নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যই আজকাল আধ্যাত্বিক প্রতিভার জাগরণ দেখা যাচ্ছে। যারা একাধিকক্রমে নতুন নতুন এবং যথার্থ আধ্যাত্বিক কলাকৌশল আবিষ্কার করে যাচ্ছেন।

বিষয়টি উপদেশযোগ্য যে আপনিও ঐ সকল আধ্যাত্বিক মানুষদের পথ অনুসরণ করে প্রার্থণার কলাকৌশল গুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করতে থাকুন। দেখবেন আপনার জীবনেও বয়ে আসবে চির শান্তি, চির সুখ। আপনিও জীবনে ঐ সকল আধ্যাত্বিক মানুষের মতো জীবনে পাবেন চির বসন্ত, চির সুখ। আপনার জীবনে বয়ে আসবে শান্তি আর শান্তি। আপনি হয়ে যাবেন পৃথিবীর সুখী একজন মানুষ। আপনি হয়ে যাবেন পৃথিবীতে সবার চেয়ে একটু আলাদা। আপনার সংস্পর্শে এসে মানুষ শান্তি অনুভব করবে। আপনি হয়ে যাবেন চির সুখী একজন মানুষ। আপনার জীবন থেকে হতাশা দূর হয়ে যাবে। যত রকম সমস্যাই আসুক না কেন, আপনি ঐ সকল সমস্যার সঠিক সমাধান পেয়ে যাবেন।

প্রার্থণা করার একটি ভালো সূত্র রয়েছে। সূত্রটি হলো:
১) প্রার্থনা অনুশীলন করুন।
২) প্রার্থনার বিষয়কে মনে ছবিতে পরিণত করুন।
৩) এবং কল্পিত ছবিকে বাস্তবায়িত করুন।

মনের আকাঙ্খাকে প্রার্থনায় পরিণত করা সম্পর্কে আমার ঐ বন্ধুটি এভাবে আমাকে বুঝিয়েছেন যে, প্রতিদিনের প্রার্থনার পদ্ধতি হতে হবে সৃজনশীল প্রার্থনা। যখনই তার কোন সমস্যা এসে উপস্থিত হতো তখনই সে তার সৃষ্টিকর্তার কাছে সরাসরি সাহায্য চাইতো। সে সৃষ্টিকর্তার সাথে সরাসরি কথা বলতো। তার প্রার্থনার ভঙ্গিটি ছিল অদ্ভুদ রকমের।

 

প্রার্থনার সময় নিজের উপর আস্থা রাখুন

তিনি কিন্তু তার প্রার্থনার সময় সৃষ্টিকর্তাকে অনেক বড় কিছু মনে করেন নি। তিনি তার সৃষ্টিকর্তাকে মনে ধারন করেছেন, তিনি ভেবেছেন তার সৃষ্টিকর্তা তার অফিসে বিরাজ করছেন, তার বাসায় বিরাজ করছেন, তিনি যেখানে আছেন সেখানে বিরাজ করছেন। আর এই জন্যই তার প্রার্থনায় সাড়া মিলে। কারন, তার প্রার্থনার সময় সে সহজ সরল মনে প্রার্থনা করেছিল। আর এই সহজ সরল মনের প্রার্থনার জন্যই তার সকল মনের আশা পূরণ হতো। তার জীবনের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যেত খুব সহজেই।

অবিরত প্রার্থনা করো বাইবেলের এই বিষয়টিকে তিনি খুব গুরুত্বের সাথেই নিয়েছিলেন। প্রতিটি সম্প্রদায়ের পাঠক তার নিজ নিজ শাস্ত্রবাণী এভাবে উচ্চারণ করতে পারেন। তিনি বিষয়টির এমন অর্থ দাঁড় করতে চেয়েছেন যে তিনি যেন বিধাতার সাথে কোন বিষয় নিয়ে সাধারণ আলোচনা করছেন। আর এই সাধারণ আলোচনাটা যেন বিধাতা শুনছে পাচ্ছে। আর বিধাতা যেন তার চেতন মন এবং অবচেতন মনে বিরাজ করছে। এভাবেই তিনি তার নিত্য দিনগুলো প্রার্থনায় ভরে তুলছেন। আর তার এই সহজ সরল বিশ্বাসই প্রভুর নিকট প্রার্থনাগুলো পৌছাতে সহায়তা করে থাকে। তিনি হাঁটার সময় প্রার্থণা করেন।

গাড়ি চালানোর সময় প্রার্থনা করেন। তিনি তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই প্রার্থনা করে চলেছেন। তার মনে হলো তিনি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বলছেন, “হে প্রভূ, এ বিষয়ে আমি কি করবো? বা এ বিষয়ে আমাকে সুষ্ঠ ও সঠিক অন্তর্দৃষ্টি দাও প্রভূ।” তিনি তার মনকে প্রার্থনাযুক্ত করেছেন, সেভাবে তার প্রার্থনাও কাজকর্ম যুক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ, কাজকর্মগুলো যেন বাস্তবায়িত হয় সেভাবে সব কিছু করেছিলেন তিনি।

 

প্রার্থনা হতে হবে সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে

তার সৃজনশীল প্রার্থনার উদ্ভাবিত দ্বিতীয় বিষয়টি হলো মনের পর্দায় ছবি অংকিত করা। পদার্থ বিদ্যার মূল কারণটি হলো “শক্তি”। মনোবিজ্ঞানের মূল কারণটি হলো কোন কিছু বাস্তবায়িত করার মতো সফল ইচ্ছা শক্তি। যেমন যে লোকটি কোন বিষয়ে সাফল্য লাভের প্রবল ঝোঁক মনে মনে ধারণ করে সে সাফল্য পেয়েই যায়। আবার কেউ যদি কোন বিষয়ে সাফল্য পাবার ক্ষেত্রে কম জোর ভাবে তাহলে সে সাফল্য পায় না বললেই চলে।

তার সাফল্য আসলে নির্ভর করে থাকে তার চিন্তা ভাবনার উপর। তার চিন্তা ভাবনা যদি পজিটিভ হয়, তাহলে তার সাফল্যও হয় পজিটিভ। তার জীবনে ব্যর্থতা আসে না বললেই চলে। তার জীবনটা হয়ে যায় অনেক সহজ সরল। সে জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতেও নিজেকে ঠিক রাখতে পারে। জীবনে অনেক উন্নতি সাধন করতে পারে। তার জীবনটা হয়ে উঠে অনেক সাফল্য মন্ডিত।

প্রার্থনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরী। বিষয়গুলো হলো: প্রতিদিন অন্তত কয়েক মিনিট সব কিছু থেকে বিরত থাকুন। কোন কথাই বলবেন না। ঐ সময়টুকু শুধু মহান সৃষ্টিকর্তার কথাই ভাবার অনুশীলন করুন। এটি আপনার মনকে আধ্যাত্নিক ধারণক্ষম করে তুলবে।

সহজ, স্বাভাবিক শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে মৌখিক প্রার্থনা করার অভ্যাস করুন। মনে যা আছে তাই আপনার বিধাতাকে বলুন। একেবারে অপরিবর্তনীয় পবিত্র শব্দাবলী ব্যবহার করতে হবে তা একদমই ভাববেন না। বিধাতার সাথে তার নিজের ভাষায় কথা বলুন, তিনি তো তা বুঝেনই। বিধাতা সকল ভাষাই বুঝে থাকে। প্রতিদিনের নির্ধারিত কাজের সময়, অফিসে ডেস্কে কাজ করার সময়, বাসে চলার সময় আপনি আপনার বিধাতার সাথে কথা বলুন।

তিনি যদি আমাদের সাথে থাকেন তাহলে ভয় নেই আমাদের

দেখবেন তিনি আপনাকে সহায়তা করছেন সব সময়। তিনিই তো আমাদেরকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। আর তাই তিনি আমাদের সাথে রয়েছেন সব সময়। তিনি যদি আমাদের সাথে থাকেন তাহলে আমাদের এতো ভয় কিসের? আমাদের এতো দুঃশ্চিন্তা কিসের? তিনিই তো আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাবেন। তিনিই তো আমাদেরকে সাহায্য করবেন। আমাদের কাজকর্মে উৎসাহ প্রদান করবেন। তিনি ছিলেন, তিনি আছেন। তিনি থাকবেন সব সময় আমাদের পাশে। তার করুনা, তার অনুভূতি আমাদেরকে ঘিরে রাখে সব সময়।

যখন আপনি প্রার্থনা করবেন তখন শুধু চাওয়াটা ঠিক হবে না। পাশাপাশি আপনাকে এটা বুঝতে হবে যে, আপনি যেন প্রভূর আর্শিবাদ পাচ্ছেন, আপনি যেন প্রভূর সান্নিধ্য পাচ্ছেন। জীবনের সকল বিষয়ে উন্নতি সাধন করার জন্য আপনাকে যে বিষয়টির দিকে লক্ষ রাখতে হবে সেটি হচ্ছে, জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে প্রভূর সান্নিধ্যে থাকা। প্রভূকে ভালোবাসা। প্রভূূর প্রেমে মজে থাকা। প্রভূ আপনার সাথে সব সময় রয়েছে এই কথাটি মনে রাখুন। এই কথাটি মনে রাখলে আপনার অনেক সুবিধা হবে। আপনি জীবনে অনেক উন্নতি সাধন করতে পারবেন।

এমন বিশ্বাস নিয়ে প্রার্থনা করুন যে, আন্তরিক প্রার্থনা বিধাতার ভালোবাসা এবং তার সুরক্ষা শক্তি সহকারে আপনার প্রিয়তমদের অর্থাৎ যাদের মঙ্গলার্থে এই প্রার্থনা গুলো করা হচ্ছে তাদের কাছে যেন সেগুলো পৌঁছাতে পারে এবং তাদেরকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলতে পারে।