পরাজয়ে বিশ্বাসী হবেন না আর উ’দ্বি’গ্ন হওয়ার অভ্যাস থেকে মুক্ত হোন

আপনি যদি পরাজয়ে বিশ্বাসী হোন তাহলে আপনার নিকট আমার একটা অনুরোধ এই বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসুন। কারণ একটা কথা মনে রাখবেন আপনি যখন পরাজয়ের কথা ভাবতে থাকেন তখন মূলত আপনি পরাজয়ের দিকেই ঝুঁকতে থাকেন। আপনার পরাজয়ের চিন্তা আপনার জীবনকে অনেক কঠিন করে তোলে। কিন্তু আপনার এমন চিন্তা ভাবনায় বিশ্বাস করা উচিত যে, নাহ! আমি পরাজয়ে বিশ্বাস করি না।

 

পরাজয়ের ভাবনা থেকে বাঁচতে একটি কথা নিজেকে বারবার বলুন যে, “যীশুখ্রিস্টের শক্তি বলে যা আমাকে শক্তিশালী করে তোলে, তার মাধ্যমে আমি সবই করতে পারি।” কোন বাঁধা অপসারণ করার কাজে আপনাকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হলো, সাহসের সাথে সেই বাঁধাটির সামনা সামনি দাঁড়ান। তারপর ঘ্যানর ঘ্যানর না করে সরাসরি বাঁধাটিকে আক্রমণ করুন। অর্ধ পরাজিত এর মতো হাত ও হাঁটুর উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে জীবন চালানোর চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলুন, বাঁধা বিঘ্নকে আপনি যত শক্তিশালী মনে করেছেন তার অর্ধেক শক্তিও তার নেই।

 

মনে হতাশা এবং পরাজয়ের কথা আনবেন না

যদি কোন কষ্টকর অবস্থায় পড়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একের পর এক পরাজয় বরণ করে থাকেন তবে এটার কারণ হচ্ছে আপনি সম্ভবত বছরের পর বছর হতাশা ও পরাজয়ের কথা ভেবে এসেছেন। আপনি হয়তো এতোদিন যাবৎ বলে এসেছেন আমাকে দিয়ে কিছু হবে না, আপনি কিচ্ছু করতে পারবেন না এসব। আপনার অসক্ষমতা বা অসামর্থের ধারণাটিকে আপনি এত জোরের সাথে আপনার ভবিতব্য বলে ধরে নিয়েছেন যে, আপনার মন ক্রমান্বয়ে এবং যখন আপনার মন তা বিশ্বাস করেছে তখন আপনিও বিশ্বাস করেছেন। একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন, আপনি যা ভাবেন আপনার জীবনে তেমনটাই ঘটে।

কিন্তু, অন্যদিকে যখন এই নতুন এবং সৃজনশীল ধারণাকে কাজে লাগান, আর বলেন বিধাতার শক্তি সহযোগে আমি সবই করতে পারি তাহলে আপনার মধ্যে একটি নতুন মানসিকতার উন্মেষ ঘটবে। এই নতুন সুফলদায়ী মনোবৃত্তির উপর বার বার জোর দিন এবং তাতে চূড়ান্তভাবে আপনি আপনার অবচেতন মনকে বিশ্বাস করাতে পারবেন যে, কষ্টকর অবস্থার বিষয়ে আপনি অবশ্যই কিছু করতে পারবেন। অবশেষে যখন আপনার মন বিশ্বাসে বদ্ধমূল হবে, ঠিক তখন থেকে অবাক করে দেবার মতো ফলাফলও ঘটতে শুরু করবে। হঠাৎ আপনি আবিষ্কার করতে পারবেন যে, যে শক্তিটাকে আপনি কোনদিন কখনও স্বীকারই করেন নি, সে শক্তিই এখন আপনার মধ্যে বিদ্যমান।

 

আপনার মানসিক ভাবটাই আসল

আপনার মানসিক ভাবটাই হলো আসল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইটুকু বিশ্বাস করতে শিখুন যে, সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আপনার মধ্যে শক্তি দিয়েছেন, যে শক্তি বলে আপনি বাজে অবস্থা থেকে নিজেকে তুলে নিয়ে আসতে পারেন। এর জন্য আপনার যা দরকার তা হচ্ছে আপনার শক্তির উৎসের উপর সজাগ দৃষ্টি রাখা। নিজেকে দৃঢ়তাবদ্ধ করুন যে, ঐ শক্তির মাধ্যমে আপনি করণীয় সব কিছুই করতে পারবেন। বিশ্বাস করুন যে, এই শক্তি বলে আপনি আপনার দুশ্চিন্তাকে অনায়াসে হটিয়ে দিতে পারবেন, কারণ এ শক্তিতো আপনার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশ্বাস করুন যে জয় আসবেই।

এখন আর একটি অন্তরায়ের দিকে লক্ষ্য করুন, যে অন্তরায়টি আপনাকে বিরক্ত করে চলেছে। আপনি দেখতে পারেন যে আপনি যতটা মনে করে ছিলেন তা তত ভয়ানক নয়। নিজেকে একথা বলুন, বাজে কিছু শুধুমাত্রই মনের ব্যাপার আমি সব সময় জয়ের কথা ভাবি এবং জয়ী হয়। এই সূত্রটি সব সময় স্মরণ রাখুন একটুকরো কাগজের উপর কথাগুলো লিখুন, আপনার থলের ভেতর তা রেখে দিন, আপনার আয়নার উপর সেটে রাখুন। যেখানে প্রতি সকালে আপনি দাড়ি সেভ করেন সেখানে। রান্নাঘরের বেসিনের উপর লাগিয়ে রাখুন ড্রেসিং টেবিলের উপরেও লাগিয়ে রাখুন এবং আপনার অবচেতন মনের গভীরে না পৌছা পর্যন্ত এটিকে ব্যবহার করতে থাকুন।

 

কিভাবে উ’দ্বি’গ্ন হওয়ার অভ্যাস থেকে মুক্ত হবেন?

উদ্বিগ্নতার বলি হবার কোন প্রয়োজন নেই আপনার। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে যে, উদ্বিগ্ন হওয়া বলতে কি বুঝায়? এর একটি সহজ উত্তর হলো, অস্বাস্থ্যকর এবং ধ্বংসকারী মানসিক অভ্যাস। আপনি কিন্তু এই অভ্যাসটি সাথে করে নিয়ে জন্মান নি। এই অভ্যাসটি আপনার নিজেরই অর্জন। যেহেতু আপনি যেকোন অভ্যাসকে বদলে ফেলতে পারেন, যেকোন অভ্যাসকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলতে পারেন সেহেতু আপনি এই অভ্যাসটিকেও বদলে ফেলতে পারেন। আসুন আমরা এখনই আপনার ধ্বংসাত্মক ও উদ্ধিগ্ন হওয়ার অভ্যাসকে চিরতরে দূর করে দেই।

উদ্বিগ্ন হওয়ার সমস্যাকে কেন আমরা এতোটা গুরুত্বের সাথে নেই? এর কারণটি সম্পর্কে প্রসিদ্ধ মনোবিজ্ঞানী ড. স্মাইলি ব্ল্যানটন পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন- “উদ্বিগ্নতা হলো আধুনিককালের একটি বিরাট মহামারি।”

কোন এক বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী বলেছেন যে, ভয় হলো মানব ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় খন্ডিত শত্রু এবং একজন প্রসিদ্ধ ডাক্তার বলেছেন যে, মানুষের যত রকমের রোগ বালাই আছে তার মধ্যে উদ্বিগ্ন হওয়াই সবচেয়ে সুক্ষ এবং ধ্বংসাত্নক। অন্য একজন ডাক্তার আমাদের বলেন যে, হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ্য কারণ, তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

যদি আপনি দীর্ঘদিন বাঁচতে চান, তাহলে নীচের নিয়মগুলো মেনে চলুন-

১) শান্ত থাকুন।
২) নিয়মিত গীর্জায় যান। (মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডায় যান।)
৩) উদ্ধিগ্নতা মন থেকে বের করে দিন।

এক জরিপে দেখা গেছে যে, গীর্জার সদস্যবৃন্দ, মন্দির, মসজিদ এবং প্যাগোডা সদস্যবৃন্দ যারা এর সদস্য নয় অর্থাৎ নিয়মিত এখানে যাওয়া আসা নেই তাদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে। কাজেই যদি বেশীদিন বাঁচতে চান তবে ঐ উপসানালয় গুলোতে যাওয়া আসা করা আপনাদের জন্য ভালো এবং যদি না অল্পবয়সে মরতে চান। ঐ লেখাটিতে আরো একটি তথ্য হলো যে, বিবাহিত লোকেরা অবিবাহিতদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে। সম্ভবত এর অন্তর্নিহিত কারন হলো যে, বিবাহিত যুগল তাদের উদ্বিগ্নতাকে ভাগাভাগি করে নিতে পারে।