নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন

নিজের উপর আস্থা রাখুন, নিজের সামর্থ্যের উপর পূর্ণ আস্থাবান হোন। বিনীত আচরণ মানব চরিত্রের এক দামি অলংকার। আপনার যে বিষয়ের উপর শক্তি রয়েছে তার প্রতি পূর্ণাঙ্গ আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। আর যদি পূর্নাঙ্গ আত্মবিশ্বাস না থাকে তবে আপনি সফল হতে পারবেন না। দৃড় আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করেই কেবল আপনি সফলতা পেতে পারেন। চরম মানসিক পীড়া হচ্ছে হীনমন্যতাবোধ, এটা যে কত শত মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে তার হিসেব নেই।

একটি মানুষ জীবনে ব্যর্থ হওয়া মানে জীবনে সমাহিত হওয়া। কিন্তু আপনার এমন কষ্ট ভোগ করার প্রয়োজন নেই। আপনি শুধু সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে আপনার জীবনে সফল হতে পারবেন। জয় করতে পারবেন সকল দুঃখ, কষ্টকে। তার জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হলো নিজের মধ্যে গঠনমূলক বিশ্বাসের ভিতকে মজবুত করা। এ হলো সেই বিশ্বাস যা বয়ে নিয়ে আসে সার্বজনীন মঙ্গল ও সফলতা। আর এটা সমর্থিত ও বহুল পরীক্ষিত একটি সত্য। সংক্ষেপে বলতে গেলে- আপনার আত্মবিশ্বাসকে গড়ে তোলার জন্য ঠিক এখনই আপনি কি করতে পারেন? সুন্দর একটি মন এবং বিশ্বাসকে আপনার ভীতরে স্থীতি অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য কিছু নিয়ম এখানে দেওয়া হলো:

আপনি জয়লাভ করেছেন, এই বিষয়টিকে আপনি আপনার ভেতরে ভালোভাবে ধারণ করে রাখুন, সীল মেরে রাখুন। নাছোড়বান্দার মতো সেই জয়ের ছবিটি আপনার মধ্যে ধরে রাখুন। কখনো ছবিটাকে ফ্যাকাশে হতে দিবেন না। দেখবেন আপনার মন এটাকে আরো উন্নত করতে চাইবে। কখনো ভাববেন না যে আপনি হেরে যাচ্ছেন। নিজের সফলতা বা জয়ের ব্যাপারে কখনো কোন সন্দেহ রাখবেন না। মনে রাখবেন, নিজের মধ্যে কখনো পরাজয়ের ছবি আকবেন না। কারণ, আপনার মধ্যে যে ছবিটি ধরে রাখনেন সেটাই আপনার জীবনে প্রতিফলিত হবে। পরাজয়ের ছবি ধরে রাখলে পরাজয়ই হবে। তাই সব সময় নিজের মধ্যে জয়ের বা সফলতার ছবি ধরে রাখবেন।

নিজের উপর আস্থা

 

নিজের উপর আস্থা জয়লাভের ছবি

মনে মনে সব সময় এমন ছবিই আঁকুন যে, যেন আপনি জয় লাভ করেছেন। খারাপ সময় গেলেও সফলতার কথাই ভাবুন সব সময়। তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন। আপনার ব্যক্তিগত শক্তি সম্পর্কে যখনই কোন নেতিবাচক চিন্তা বা ক্ষতিকর চিন্তা আসবে, তখনই সেই চিন্তা ধারার মোড় ঘুরিয়ে দিবেন। এমন নেতিবাচক চিন্তা ধারাকে খসিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার যথার্থ চিন্তা ধারাকে আদেশ করুন। দেখবেন আপনার সকল নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা দূরে সরে যাচ্ছে।

আপনার ভালো কল্পনার পথে কোন বাঁধা সৃষ্টি হতে দেবেন না। ঐ সব ভাবনা গুলো একেবারেই মূল্যহীন, ভাবনা গুলোর কোন দাম নেই এমন এমন চিন্তা শক্তি নিজের ভেতর প্রেরণ করেন। দুঃখ, কষ্ট নিয়ে অবশ্যই বুঝাপড়া করতে হবে। ঐ সবগুলোকে হটিয়ে দেবার জন্য অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর দক্ষতার সাথেই ঐসব কিছুকে মোকাবেলা করতে হবে। ভীত চিন্তার দ্বারা দুঃখ-কষ্টকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভাবা যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভাবলেই দুঃখ কষ্ট আপনার ভেতরে চেপে বসবে। তাই সব সময় পজিটিভ বা ভালো ভাবনা ভাবতে হবে। তবেই আপনার জীবনে শান্তি আসবে, সুখ আসবে, সমৃদ্ধি আসবে।

অন্যের দ্বারা কোন ভাবেই শ্রদ্ধায় বা ভয়ে অভিভূত হওয়া যাবে না। আর তা ঠিকও হবে না। অন্যকে ভয় করে চলা আমাদের জন্য উচিত হবে। তবে তাদের ভালো দিকগুলো অনুসরণ করতে হবে। আর খারাপ দিকগুলো অবশ্যই বর্জন করতে হবে। নিজেকে নিয়ে সব সময় এটা ভাবুন যে, আপনি যতোটা দক্ষতার সাথে কাজগুলো করছেন অন্যরা তা পারে না। মনে রাখবেন বেশিরভাগ লোকই প্রচুর আত্মবিশ্বাসী ভাব দেখালেও তারা আসলে মনে মনে ভীত। আবার নিজেদের ব্যাপারে সন্দেহ করে। তাই আপনি উনাদের মতো হবেন না। আপনি নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যাতে অন্যরা আপনাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করে। আপনাকে আইডল মানে।

 

আত্মবিশ্বাস ও সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখুন

আপনি দিনে অন্তত দশবার এই কথাগুলো বলেন যে, “সৃষ্টিকর্তা যদি আমাদের পক্ষের হয়, তাহলে কেইবা আমাদের বিপক্ষ হতে পারে?” এবার ধীরে ধীরে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বলুন। দেখবেন আপনার ভেতরে এক অসাধারণ শক্তি অনুভব করতে পারবেন। এক অসাধারণ আত্মবিশ্বাস পাবেন নিজের ভীতরে। মনে হবে সব কিছুই আপনার পক্ষে করা সম্ভব। কারণ সৃষ্টিকর্তা আপনার পক্ষেই আছেন। কোন বিজ্ঞ পরামর্শকের কাছে গিয়ে বুঝে নিন বা শিখে নিন যে, আপনি কি করছেন বা কেন করছেন। তিনি আপনাকে অবশ্যই বুঝিয়ে দিতে সাহায্য করবেন যে আপনার হীনতাবোধটা ঠিক কোথায় বা কি কারণে হচ্ছে।

তিনি আপনাকে আরো ধরিয়ে দিবে কেন আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, কেন আপনি নিজেকে সন্দেহ করে বিচলিত করছেন। এসব কিছুই আপনাকে ধরিয়ে দিতে পারবেন একজন বিজ্ঞ সাহায্যকারী। ভুলে গেলে চলবে না, সোপার্দিত জ্ঞান আপনাকে সুস্থতার পথে নিয়ে যায়। এই নিশ্চয়তা বোধটি নিয়ে আপনি দিনে অন্তত দশবার অভ্যাস করুন, সম্ভব হলে জোরে জোরে বলুন- “সৃষ্টিকর্তার শক্তিতে আমি সব কিছুই করতে পারি।” এই কথাটি বার বার বলুন। আপনার সব রকমের হীনমন্যতা, কষ্ট, সন্দেহ সব রকমের নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়ে যাবে। এটি আপনার সকল খারাপ কিছুর প্রতিষেধক হিসেবে যাদুকরীভাবে কাজ করবে।

নিজের সামর্থ্যের উপর সত্যিকারের পরিমান নির্ধারণ করুন, তারপর একে দশ পার্সেন্ট বাড়িয়ে দিন। হ্যাঁ, বাড়িয়ে দিন। দাম্ভিকতায় বা অহমায়িকতায় জড়িয়ে পড়বেন না। বরং আপনার সুস্থ্য আত্মসম্মানবোধকে আরো উন্নত করুন, জাগিয়ে তুলুন। আপনার প্রভুর প্রতি পূর্ণাঙ্গ আস্থা ও ভরসা রাখুন। যার কাছ থেকে সব সময় শক্তি বিচ্ছুরিত হচ্ছে এবং হবেও সব সময়। যিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। আপনার প্রভুকে ভালোবাসুন। নিজেকে প্রভুর হাতে সমর্পন করুন। এই কাজটি করতে সহজভাবে বলুন- “আমি প্রভুর হাতে সমর্পিত”। তারপর বিশ্বাস করুন, এখন আপনি আপনার পর্যাপ্ত শক্তি বিধাতার কাছ থেকে গ্রহণ করছেন।

 

বিধাতার সাথে থাকুন ও চলুন

নিজেকে স্বরণ করিয়ে দেন যে, বিধাতা আপনার সাথে আছে এবং কোন কিছুই আপনাকে হারিয়ে দিতে পারে না। মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন যে আপনি এই মুহূর্তে বিধাতার কাছ থেকে শক্তি পাচ্ছেন। আর বিধাতার শক্তি পাওয়ার মানেই হলো আপনি জীবনে যা কিছু চান তা করতে পারবেন। আপনি সফলতা চাইলে সফলতা আপনার নিকট এসে ধরা দিবে। আপনার মনকে পরিপূর্ণ আস্থায় আত্মবিশ্বাসের এবং নিরাপত্তার ভাবনায় ভরে ফেলুন। দেখবেন আপনার নিকট থেকে ভয়, হতাশা ইত্যাদি দূরে পালিয়ে যাবে।

নিজের উপর আস্থা । আপনি নিজের মধ্যে পরম শান্তি বোধ করবেন। আপনি সফলতার রাস্তা খুজে পাবেন। যে রাস্তা ব্যবহার করে আপনি নির্দিষ্ট কাজ হাসিল করতে পারবেন। হেরে যাবেন, এমনটা যদি ভাবেন তাহলে দেখবেন আপনার মাথায় হেরে যাওয়ার চিন্তাই মাথায় আসবে। হেরে যাওয়ার অনুভূতি আপনার মধ্যে কাজ করবে। তখন আপনার ভেতরে অনেক হতাশা ও ভয় কাজ করবে। তাই হেরে যাওয়ার কথা না ভেবে সব সময় জয়ী হওয়ার কথা ভাবুন। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রাখুন।