আপনি যা চান তা কিভাবে পাবেন? পাওয়ার সহজ উপায়

সকল প্রার্থনার জবাব কিন্তু মেলে না। এই কথাটি সবার জানা। সন্দেহবাদীরা আবার একে এই প্রমাণ হিসেবে দেখে যে, প্রার্থনায় কোন কাজ হয় না। তবে তারা যে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে বা এড়িয়ে যায় তা হলো সায়েন্টিফিক বেসিসে কার্যকরভাবে এর ব্যবহার করতে হবে। তখনই কেবল আমরা জানতে পারবো যে, কেন বিশেষ কোন প্রার্থণা কাজে আসছে না।

আপনি প্রার্থনা করছেন, কিন্তু কোন জবাব পাচ্ছেন না, তখন কী হবে? এটি নিঃসন্দেহ ভাবে একটি ব্যর্থতা। আর ওতে আত্মবিশ্বাসের একটি ঘাটতিও রয়েছে। অনেকেই সন্দেহবাদী মন নিয়ে প্রার্থনা করে। এজন্য তাদের অবচেতন মন সাড়া দেয় না। আপনি যখন জানতে পারবেন কীভাবে কাজ করে থাকে আপনার মন, তখন আপনার ভেতরে চলে আসে প্রচুর আত্মবিশ্বাস। আপনাকে একটি কথা সব সময় মনে রাখতে হবে। কথাটি হচ্ছে, যখনই আপনার অবচেতন মন কোন আইডিয়া গ্রহণ করে, তখন থেকেই এটি আইডিয়াটি বাস্তবায়নের জন্য সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে দেয় কাজ।

সে তার কার্যোদ্ধারে সর্ব শক্তি প্রয়োগ করে থাকে। আপনার গভীরতর স্তরে থাকা সকল প্রকার মানসিক এবং আধ্যাত্মিক কানুনগুলো একত্রিত করে। এ কানুন ভালো আইডিয়ার জন্য সত্য হলেও খারাপ আইডিয়াগুলোকেও কিন্তু ধরে রাখে। তাই আপনি যদি আপনার মনকে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করেন তাহলে এটি বয়ে নিয়ে আসবে ঝামেলা, বর্থতা এবং বিভ্রান্তি। আর এটিকে গঠণমূলক ভাবে ব্যবহার করলে তা বয়ে নিয়ে আসবে গাইডেন্স, স্বাধীনতা এবং মনের শান্তি। যখন আপনার চিন্তা ভাবনাগুলো গঠনমূলক, ইতিবাচক তখন সঠিক জবাবটি অনিবার্য। এ থেকে এটা পরিষ্কার যে, ব্যর্থতা অতিক্রম করতে হলে আপনার অবচেতন মনকে আপনার আইডিয়া বা অনুরোধকে গ্রহণ করাতে হবে। এর বাস্তবতা একে একে অনুভব করতে দিন, মনের আইন বাকী কাজ সেরে নিবে নিজের থেকেই।

 

বিশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাসে অবচেতন মন সাঁড়া দেয়

আপনার অনুরোধে যদি থাকে বিশ্বাস এবং আত্মবিশাস, আপনার অবচেতন মন এটি গ্রহণ করবে এবং জবাব দেবে। তবে যখনই আপনার অবচেতন মনকে জোর করে কিছু করাতে যাবেন, ঠিক তখনই ব্যর্থ হবেন। আপনি যে ফলাফল চাইছেন, তা কাছে আসার পরিবর্তে দূরে সরে যাবে। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে অবচেতন মন সাড়া দেয় না। আপনার সচেতন মন যা গ্রহণ করে বা আপনার বিশ্বাস যেমন ঠিক তেমন ভাবে আপনার অবচেতন মন সাড়া দেয়। তাই সব সময় ইতিবাচক ভাবনা ভাবুন।

আপনার অবচেতন মন সব সময় ক্লিয়ার কাট আইডিয়া নিয়ে কাজ করে। ক্লিয়ার কাট আইডিয়ায় আপনার অবচেতন মন খুব দ্রুত সাড়া দিয়ে থাকে। আপনি যেকোন সমস্যায় পড়লে আপনার অবচেতন মনকে বিষয়টি জানান, সমাধান করার পথ খুঁজে বের করতে বলুন। দেখবেন, আপনার অবচেতন মন তার অসীম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সমস্যাটির সমাধান খুঁজে বের করবে। আপনাকে সঠিক রাস্তা দেখিয়ে দিবে।

আপনি যখন কোন আইডিয়া নিয়ে আপনার সচেতন মনে সুন্দর একটি উপসংহারে পৌছাবেন বা কোন সমস্যার সুন্দর সমাধান করে নিবেন। তখন আপনার আপনার অবচেতন মন প্রস্তুত হয়ে যাবে এবং আপনার বিশ্বাস অনুসারে কাজ হয়ে যাবে। আরেকটি কথা আপনার সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে সহজ এবং সুখি সমাধানটির কথা ভাববেন। সমস্যাটি স্বাস্থ্য, আর্থিক অথবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক যা হোক না কেন। আপনার অবচেতন মন ঠিকই সবচেয়ে সহজ এবং সুখি সমাধানটি করে ফেলবে।

 

আপনার কল্পনা শক্তি ব্যবহার করুন, ইচ্ছা শক্তি নয়

অবচেতন মনের শক্তি তালিকাভুক্তি করা মানে বাধা অপসারণের ওকে ঠেলে দেওয়া। খুব কঠিন পরিশ্রম করলেই ভাল ফলাফল লাভ করা যায় না। উইলপাওয়ার বা ইচ্ছা শক্তি ব্যবহার করবেন না। বরং এটি যে স্বাধীনতার অবস্থা তৈরি করে তাকে কল্পনা করুন। আপনি দেখতে পাবেন আপনার বুদ্ধিমত্তা রাস্তা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছে। আর সেসব রাস্তার ছাপ ফেলছে আপনার অবচেতন মনের ওপর।

এটিকে প্রতিহত করুন। আপনার ইন্টেলেকচুয়াল সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে একপাশে ঠেলে সরিয়ে রাখুন। অলৌকিক ঘটনা ঘটানোর মতো বিশ্বাসের প্রতি নাছোর বান্দার মতো লেগে থাকুন। সমস্যাহীনভাবে নিজের ছবি দেখুন কল্পনায়। ডিসিপ্লিনড কিংবা সায়েন্টিফিক ইমাজনেশনের মাধ্যমে আপনি অবচেতন মন থেকে সাড়া পেতে পারেন। আমরা দেখছি অবচেতন মন হচ্ছে আমাদের শরীরের স্থপতি বা নির্মাতা। এটি আপনার সকল ফাংশন গুলো নিয়ন্ত্রন করে। বাইবেলে বলে, প্রার্থনায় তুমি যাহা খুঁজিবে, বিশ্বাস করিবে তুমি তাহা পাইবে। কোনো কিছুকে সত্যি বলে বিশ্বাস করে গ্রহণ করুন। এই মুডটি যদি ধরে রাখতে পারেন তবে আপনি আপনার প্রার্থনার জবাবের আনন্দময় অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।

প্রার্থনায় সাফল্য পাবার তিনটি পদক্ষেপ।
সকল প্রার্থনায় তিনটি মৌলিক পদক্ষেপ রয়েছে:
১) সমস্যাটি স্বীকার করুন।
২) অবচেতন মনের কাছে আপনার সমস্যাটি পাঠিয়ে দিন, সে একা শুধু জানে এর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান কী।
৩) এ রকম দৃঢ় প্রত্যয় মনে আনুন যে কাজ হয়ে গেছে।

 

প্রার্থনার সময় সন্দেহ করবেন না কখনো

সন্দেহ, দ্বিধাদ্বন্দ্ব আপনার প্রার্থনাকে কেবল দুর্বল করেই তুলবে। নিজেকে কখনো বলবেন না যে ‘ইস! আমি যদি সুস্থ হতে পারতাম’ কিংবা ‘আশা করি এটা কাজে লাগবে’। এমন কিছু বলা যাবে না। বরং বলতে হবে, প্রভুর রহমতে আমি অবশ্যই সুস্থ হয়ে যাবো। আমাকে সুস্থ করে তোলার জন্য প্রভুকে ধন্যবাদ। আপনি কাজটি করতে কতোটা আন্তরিক তা কিন্তু আপনার প্রার্থনার সুর দিয়েই বুঝা যাবে। সুর ও ছন্দ আপনার। জানুন স্বাস্থ্য আপনার।

আপনি অবচেতন মনের অসীম নিরাময়যোগ্য শক্তির একটি যন্ত্র মাত্র। আপনার অবচেতন মনের কাছে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এই আইডিয়াটি পাঠিয়ে দিন, তারপর নিশ্চিন্তে রিল্যাক্স করুন। নিজেকে তুলে দিন শক্তির কাছে। রিল্যাক্সাশেন এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে আপনার আইডিয়াটি অবচেতন মনে প্রবেশ করান। আইডিয়ার মধ্যে যে গতি শক্তি আছে এটি তা চালু করে দেবে এবং নিরেট উপলব্ধি বহন করে আনবে।

 

মনের উপর চাপ প্রয়োগ করে কিছু করবেন না

মনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কিংবা মনে ভয়ভীতি দুঃশ্চিন্তা ইত্যাদি থাকলে আপনি আপনার প্রার্থনার জবাব পাবেন না। আপনার মন যখন অনেক শিথিল থাকে এবং তখন যদি আপনি একটি আইডিয়া গ্রহণ করেন, আপনার অবচেতন মন সেই আইডিয়াটি বাস্তবায়নে কাজে লেগে যায়। ঐতিহ্যগত মেথড গুলো নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করুন এবং পরিকল্পনা করুন। জানবেন প্রার্থনার সকল সময়ই জবাব রয়েছে এবং প্রতিটি সমস্যার সমাধানও রয়েছে।

স্বাস্থ্যের কথা ভাবলে স্বাস্থ্য পাওয়া যায়, সম্পদের কথা ভাবলে সম্পদ পাওয়া যায়। পছন্দটা আপনার হাতেই রয়েছে। কল্পনা শক্তি হচ্ছে আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতা। কল্পনা শক্তির সাহায্যে আপনি যা চাইবেন, তাই পেতে পারেন। তাই সবচেয়ে ভালো জিনিসটি কল্পনা করুন। নিদ্রালু অবস্থায় সচেতন ও অবচেতন মনের দ্বন্দ্ধ এড়িয়ে চলুন। ঘুমাবার আগে বার বার কল্পনা করুন আপনার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। তারপর শান্তিতে ঘুমোতে যান এবং আনন্দ নিয়ে জেগে উঠুন।

কল্পনাকে ব্যববহার করুন আপনি

আপনার কল্পনা শক্তির সঠিক ব্যবহার করতে শিখুন। কল্পনায় আপনি যা খুব সহজে দেখতে পান তা আপনার বাস্তব জীবনে ফিরে আসে। আপনার বাস্তব জীবনে মঙ্গল লাভের জন্য প্রতিটি কল্পনা পজেটিভ ভাবে করুন। কোন নেগেটিভ কল্পনা করবেন না। নেগেটিভ কল্পনা আপনার জীবনে নেগেটিভ কিছুই বয়ে নিয়ে আসবে। তাই সব সময় পজেটিভ থাকুন। পজেটিভ কথা বলুন, পজেটিভ ভাবনা ভাবুন। শান্তিতে থাকুন, সুখে থাকুন।

পরিশেষে বলা যায় যে, আপনার অবচেতন মনে রয়েছে আপনার জীবন পরিবর্তন করার মতো ক্ষমতা। আপনি চাইলেই আপনার অবচেতন মন ব্যবহার করে আপনার জীবনটা পরিবর্তন করতে পারবেন। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যারা কিনা তাদের অবচেতন মনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন করতে পেরেছে। অনেক মহা মানব রয়েছে যারা কিনা তাদের জীবনকে পরির্বতন করতে পেরেছে।